Breaking News
Home / খবর / আগামী নির্বাচনে কি তারা প্রার্থী হবেন?

আগামী নির্বাচনে কি তারা প্রার্থী হবেন?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দুই বছর বাকি কিন্তু ইতিমধ্যে নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে। এই নির্দেশের পর আওয়ামী লীগ এখন সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ মাঠ জরিপের কাজও শুরু করেছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও নির্বাচনকে মাথায় রেখে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি নতুন করে উত্থাপন করেছে। তারা বলছে যে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী কোনো নির্বাচন তারা হতে দেবে না। এ নিয়ে সংঘটিত হওয়ার জন্য বিএনপি প্রথম দফা ধারাবাহিক বৈঠক শেষ করেছে, এখন দ্বিতীয় দফা বৈঠকের জন্য তারা প্রস্তুত হচ্ছে, আগামীকাল থেকে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগাম এই নির্বাচনের হাওয়ায় আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে কিরকম হবে সে প্রস্তাবগুলো যেমন উপস্থাপিত হচ্ছে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম এসেছে যারা বার্ধক্যজনিত কারণে বা বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে হয়তো আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নাও পারে। যে কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকে আগামী নির্বাচনের মাঠে নাও দেখা যেতে পারে তাদের মধ্যে রয়েছেন।

১. সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: সাজেদা চৌধুরীর বর্তমান বয়স ৮৬ বছর, আগামী নির্বাচনের আগে তার বয়স হবে ৮৮ বছর। শারীরিকভাবে অসুস্থ বেগম চৌধুরীকে এখনো আওয়ামী লীগের সংসদের উপনেতা রাখা হয়েছে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। বিশেষ করে দলের বিভিন্ন সংকটে তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন সেটির স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে এখনো দলের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির মর্যাদা দেয়া হয়েছে সংসদে। কিন্তু সংসদে কিংবা দলীয় কার্যক্রমে তিনি তেমন কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না, তিনি রীতিমতো অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন। আগামী নির্বাচনে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

২. ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর সদর থেকে নির্বাচিত এমপি। গতবারের সরকারের তিনি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এই নেতার বর্তমান বয়স ৭৯ বছর। নির্বাচনের আগে তিনি আশি ঊর্ধ্ব বয়সে পা দিবেন, এই বয়সে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও অনেকের সংশয় রয়েছে।

৩. কাজী জাফরউল্লাহ: ফরিদপুরের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। দু-দুবার তিনি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত নিক্সন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু নিক্সন চৌধুরী এখন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকায় তিনি জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে রীতিমত কোণঠাসা করে ফেলেছেন। এরকম বাস্তবতায় কাজী জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে হয়ত আগামী নির্বাচনে নাও দেখা যেতে পারে। কারণ নিক্সন চৌধুরী এবং কাজী জাফরউল্লাহর মধ্যে যদি জনপ্রিয়তার বিচার করা হয় তাহলে সেই বিচারের নিক্সন চৌধুরী হয়তো আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন।

৪. তোফায়েল আহমেদ: আওয়ামী লীগের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে অসুস্থ হয়ে দিল্লিতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। প্রায় তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের কে বলেছেন আগামী নির্বাচনেও তিনি আর অংশ নিতে চান না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদ আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না তা এখনো অনিশ্চিত। তবে অনেকেই মনে করেন তোফায়েল আহমেদ যদি এখন বলছেন যে আগামী নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন না কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তিনি থাকতেও পারেন। এরকম আরো কিছু বয়োপ্রবীণ নেতা আছেন আওয়ামী লীগে যাদেরকে হয়তো আগামী নির্বাচনে বার্ধক্যজনিত কারণে দেখা নাও যেতে পারে।

Check Also

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *