Home / খবর / মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন নিন্ম গ্রেডের কর্মচারীরা

মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন নিন্ম গ্রেডের কর্মচারীরা

খুবই শোচনীয় অবস্থায় দিন পার করছেন নিন্ম গ্রেডের (১১-২০) কর্মচারীরা। প্রতিবছর গড়ে ৬ শতাংশ মুল্যস্ফিতি ঘটলেও বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। প্রতি বছর ১ শতাংশ ঘাটতি হয়ে ৬ বছরে ৬ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে কর্মচারীদের বেতন ভাতায়। এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম। ফলে মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে হাহাকার নেমে এসেছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের। যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ সকল ব্যয় বাড়লে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। উপরের গ্রেড গুলোতে পদ না থাকলেও নিয়মিত পদোন্নতি হলেও যোগ্যতা থাকার পরও নিচের গ্রেডের কর্মচারীরা পদোন্নতি পান না। সারাজীবন একই পদে চাকরি অথবা নাম মাত্র পদোন্নতি নিয়ে অবসরে যেতে হচ্ছে তাদের।ফলে চাকরি জীবনে বঞ্চিত হওয়ায় বেতন স্কেল না বাড়ায় তারা পেনশনও পাচ্ছেন অনেক কম।

জানা গেছে, বর্তমানে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ৮২ হাজার টাকা। এছাড়াও তিনি বাসা ভাড়া হিসেবে পাচ্ছেন ৪১ হাজার টাকা। গাড়ী রক্ষণাবেক্ষনের জন্য পাচ্ছেন ৫০ হাজার টাকা। রান্না করার জন্য বাবুর্চির বেতন এবং দারোয়ানের জন্য পাচ্ছেন ১৬ হাজার করে। টেলিফোন বিল এবং সভার সম্মানিসহ মাসে কমপক্ষে ২ লাখ টাকা পাচ্ছেন তিনি। বছরে তিন থেকে পাঁচটি বিদেশ সফরে পান অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা।

অথচ ২০ তম গ্রেডের একজন কর্মচারী সর্বসাকুল্যে বেতন পাচ্ছেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই তাকে বাড়ীভাড়া, খাবারসহ সব ব্যয় মেটাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও বিদ্যুৎবিল, গ্যাসবিলসহ সব মিলিয়ে চলে যাচ্ছে ৭ হাজার টাকা। এর পর পুরো মাসের খরচ চালানোর জন্য তার হাতে থাকে মাত্র ৮ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে তাকে পুরো মাসের সংসারের খরচ, পরিবারের কাপড়সহ যাবতীয় খরচ বহন করতে হয়। এর বাইরে তার আয়ের আর কোনো উৎস নেই। বেতনের আকাশ পাতাল বৈষম্য থাকলেও দৈনন্দিন খরচে নেই খুব বেশি পার্থক্য। ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসের ১৫ দিন না অতিবাহিত হতেই শুরু হয় টানাটানি। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই স্ত্রী সন্তানকে গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান ঘটাতে ২০১৩ সালে সকলস্তরের কর্মচারীদের জন্য একটি সুষম পে-স্কেল ঘোষণার উদ্দেশ্যে কমিশন গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনরকে প্রধান করে গঠিত কমিশন মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই বাছাই করে একটি সুষম পে-স্কেল প্রস্তাব করে। সেখানে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ১১২০০ টাকা এবং গ্রেড সংখ্যা ২০ থেকে কমিয়ে ১৬ করার প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে সচিব কমিটি গ্রেড পূর্ণগঠন করে ২০ গ্রেড করে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট প্রকাশ করে।

পে-স্কেল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০ থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকায় শুরু হয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় শেষ হয়। এই ১০টি গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য ৪২৫০ টাকা। পাশাপাশি ১০ থেকে প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৭৮ হাজার টাকায় শেষ হয়। এই ১০টি গ্রেডের পার্থক্য ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে গাড়ি, আবাসনসুবিধা, সুদমুক্ত গাড়ির ঋণসহ নানাবিধ সুবিধা। অথচ প্রত্যেকে একই বাজার ব্যবস্থার কাঠামোর আওতায় জীবন ধারণ করেন, এতে শ্রেণী বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে নানাভাবে আন্দোলন করছেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা। তারা পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বহুবার। মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন দীর্ঘদিন।

Check Also

মেডিকেলের প্রথম মাইগ্রেশন শিগগিরই

দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের প্রথম মাইগ্রেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে করা হবে। স্বাস্থ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published.