Home / খবর / শেষ বিকেলে পদ্মা সেতু দেখতে মানুষের ঢল

শেষ বিকেলে পদ্মা সেতু দেখতে মানুষের ঢল

বহুল প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (২৫ জুন) সকালে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অহংকারের এ সেতুটির উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং ভিআইপি অতিথিদের আগমন উপলক্ষ্যে মাওয়া এলাকা ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। মানুষ বের হতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে চলে যাওয়ার পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

সারা দিন ছিল প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরম। দুপুরের পর মেলে কিছুটা স্বস্তির বৃষ্টি। তারপর থেকেই শুরু হয় মানুষের স্রোত। দূরদূরান্ত থেকে আসতে থাকে স্বপ্নের সেতুটি এক নজর দেখতে। অনেকে অবশ্য খুব আশা নিয়ে এসেছেন, পদ্মা সেতুতে ওঠার। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কারণ সরকার ইতোমধ্যে নিরাপত্তার কারণে সেতুটিতে হাঁটাসহ বেশকিছু বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন। তাই উদ্বোধনের দিনও মেলেনি সেতুতে ওঠার সুযোগ। তবে সকালে মূল সেতুতে ওঠার আগ পর্যন্ত উন্মুক্ত করেছিল সর্বসাধারণের জন্য, কিন্তু তা কিছু সময়ের জন্য। আর এ জন্য তাদের আফসোসেরও শেষ নেই। তবে যারা আসছেন, তারা দূর থেকে পদ্মা সেতুকে দেখেছেন। কেউ কেউ নিজেকে করে নিচ্ছেন ফ্রেমবন্দি। আর এভাবেই সাক্ষী হয়ে থাকছেন ইতিহাসের।

জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক তরুণী তার মায়ের সঙ্গে এসেছেন মুন্সিগঞ্জ সদর থেকে। তিনি ভেবেছেন, প্রথমদিনে হয়তো পদ্মা সেতুতে ওঠার অনুমতি মিলবে। কিন্তু সেটা পূরণ না হওয়ায় একরাশ অভিমান নিয়ে ফিরে যান বাসায়।

তিনি বলেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম আজ পদ্মা সেতুতে উঠতে পারব, কিন্তু পূরণ হলো না। তবে, এখানকার পরিবেশটা খুব ভালো লেগেছে। যান চলাচল শুরু হলে পরে একদিন ব্রিজে উঠে জাজিরা প্রান্তে যাব।

ঢাকা থেকে সস্ত্রীক এসেছেন বেসরকারি কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন। তার স্ত্রীর ইচ্ছা, উদ্বোধনের দিনই তাকে পদ্মা সেতুতে ওঠাতে হবে। কিন্তু পূরণ না হওয়ায় স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে কথা দিলেন, পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে সুন্দরবন নিয়ে যাবেন বেড়াতে।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আজ অফিস ছুটি ছিল। তাই স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণ করতে ছুটে এসেছি। যেহেতু এটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, তাই হয়তো সেতুতে ওঠার অনুমতি দিচ্ছে না। স্ত্রীর ইচ্ছা সুন্দরবন যাওয়ার। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এখন সহজে যাওয়া যাবে। বছরের শেষ দিকে স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দরবন ঘুরে আসব, তখন পদ্মা সেতুও চড়া হয়ে যাবে।

চাঁদপুর থেকে এসেছেন তরিকুল মোল্ল্যা। তিনি শুক্রবার (২৪ জুন) এসেছেন। তার এই রুটে যাতায়াত না থাকায় স্বচক্ষে কখনো পদ্মা সেতু দেখা হয়নি। তাই উদ্বোধনী দিনের আগের দিনই ছুটে এসেছেন।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে নিউজ-গল্প শুনেছি। নিজের চোখে কখনো দেখা হয়নি। তাই শুক্রবারই মাওয়া চলে এসেছি। এখানে আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছি। ইচ্ছা আছে রোববার (২৬ জুন) পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হলে, ওপারে যাব। তারপর বাড়ি ফিরব।

এদিকে রোববার থেকে যান চলাচল শুরু হওয়া উপলক্ষ্যে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হচ্ছে চারপাশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য করা হয়েছিল বড় প্যান্ডেল। সেসব খুলে পরিষ্কারে ব্যস্ত দেখা যায় শ্রমিকদের। সেতুর দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোরভাবে পালন করছেন তাদের দায়িত্ব। কোনো স্থাপনা যাতে মানুষের সমাগমে নষ্ট না হয়, সেদিকে দিচ্ছেন বিশেষ দৃষ্টি।

Check Also

মোমেন দেশবাসীর কাছে কৌতুক অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ না, শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেহেশতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.